লাইফস্টাইল

টিকটকে নতুন ট্রেন্ড! কাঁচা ডিমের সাদা অংশ মেখে ত্বকচর্চা, বিপদ ডেকে আনছেন ইনফ্লুয়েন্সাররা?

নেটমাধ্যমে এখন নতুন ট্রেন্ড কাঁচা ডিমের সাদা অংশ! গিবলি ট্রেন্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই টিকটক জুড়ে এখন শুধু সাদা, অর্ধতরল, থকথকে এক রূপটান সামগ্রীর চর্চা। শুধু টিকটক নয়, অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম খুললেও দেখা যাচ্ছে একের পর এক মডেল এই ডিমের সাদা অংশ মুখে মেখে ত্বকচর্চায় মগ্ন।

এই নতুন ‘বিউটি সিক্রেট’ ব্যবহারকারীদের দাবি, ডিমের সাদা অংশ মুখে মাখলে ত্বক টানটান হয়, বলিরেখা কমে এবং ত্বকে আসে এক নতুন জেল্লা। তাদের আরও দাবি, ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণে কোলাজেন নামক প্রোটিন থাকে। এই কোলাজেন ত্বকের কোষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম করে ডিমের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি প্যাক বা ফেসমাস্ক মুখে লাগালে নাকি বয়স কমে যায়, চোখের তলার কালো দাগ দূর হয় এবং ঝুলে পড়া চামড়াও টানটান হয়।

একের পর এক ‘বিউটি ইনফ্লুয়েনসার’ ডিমের এই সাদা অংশ মুখে লাগানোর ভিডিও পোস্ট করছেন সমাজমাধ্যমে। তবে বিষয়টি একেবারেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না নেটিজেনদের একাংশ। তাদের প্রশ্ন, “ওসব কী লাগাচ্ছেন, কেনই বা লাগাচ্ছেন?”

অন্যদিকে, এই ট্রেন্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। মেলানি আবেয়াটা নামের ওই মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ পাল্টা একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন, ডিম সরাসরি মুখে লাগালে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কারণ এর থেকে বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি এবং সালমোনেলা নামক জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। তার মতে, ডিমের কোলাজেন পাওয়ার জন্য ডিম খাওয়াই যথেষ্ট। সরাসরি মুখে লাগানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

ডাক্তার আবেয়াটা আরও বলেন, ত্বকের কোলাজেন মূলত শরীরের অভ্যন্তর থেকে তৈরি হয় এবং বাহ্যিক প্রয়োগের মাধ্যমে তার কার্যকারিতা কতটা বাড়ে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বরং কাঁচা ডিম ব্যবহার করার ফলে ত্বকে অস্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করার ঝুঁকি বাড়ে, যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। অ্যালার্জির কারণে ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা অন্যান্য অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এছাড়াও সালমোনেলার সংক্রমণ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ত্বক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যেন কোনওরকম যাচাই না করা ট্রেন্ড অনুসরণ না করা হয়। ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রমাণিত এবং নিরাপদ পদ্ধতি অবলম্বন করাই শ্রেয়। ডিম খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী হলেও, সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করার আগে এর ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি। নেটমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যেকোনো ‘বিউটি হ্যাক’ অন্ধভাবে অনুসরণ করার আগে নিজের ত্বক এবং স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করা উচিত।

Back to top button