ভারতে ৫০ বছরে ‘নিখোঁজ’ সাড়ে ৪ কোটি মেয়ে, ৪৬ লক্ষ কন্যা ভ্রূণের হত্যা

কিছুদিন আগেই একটি খবরে তোলপাড় হয়েছে গোটা দেশ। আর সেটি হলো গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে দেখার জন্য স্ত্রীর পেট কেটেছেন স্বামী। আর এই ভয়ানক মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের বাদাউন জেলাতে। আর সেই ঘটনায় এখনো প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে কন্যাসন্তান বিশেষ করে কন্যা ভ্রূণ হত্যার বিষয়টিকে !প্রাচীন প্রথা থেকেই ভারতে দম্পতিদের পুত্র সন্তানের আগ্রহ থেকেই ভারতে এখনও মেয়ের তুলনায় ছেলের সংখ্যা বেশি।
সম্প্রতি জাতি সংঘের প্রকাশ করা জনসংখ্যা তহবিল বা ইউএনএফপিএর রিপোর্টে বলা হয়েছে গত ৫০ বছরে ভারতে প্রায় নিখোঁজ হয়েছে ৪ কোটি ৬০ লক্ষ মেয়ে। আর প্রতি বছর ভারতে গর্ভপাত ঘটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে ৪৬ লক্ষ কন্যাভ্রূণ। আর এছাড়াও অনেক কন্যা সন্তান জন্মের পর অবহেলার শিকার হয়ে মারা গেছে।
ভারত সরকারের প্রকাশিত ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুসারে ছেলে সন্তান চেয়ে মেয়ে হয়েছে এমন ‘অবাঞ্ছিত’ মেয়ে শিশুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই কোটি ১০ লাখ। ভারতের অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ওই রিপোর্টে নজর রাখলে দেখা যায় যে এখনও অনেক দম্পতি রয়েছে যারা ছেলে সন্তান না হওয়া পর্যন্ত বাচ্চ্চা নিতেই থাকে।
এই প্রসঙ্গে দিল্লিতে বিবিসির ভারতীয় নারী ও সমাজ বিষয়ক সম্পাদক গীতা পাণ্ডে বলেছেন, ভারতীয় সমাজে পুত্র সন্তানের প্রতি পক্ষপাত দীর্ঘদিনের একটা সংস্কৃতি।
গীতা পান্ডের কথায় ভারতীয় পরিবার গুলোর এখনো বিশ্বাস যে একমাত্র ছেলে সন্তান তার পরিবারকে আর্থিকভাবে দেখবে শেষ বয়সে পিত -মাতার দেখা শোনা করবে ও বংশের পরিচয় বাঁচিয়ে রাখবে। অপরদিকে৪ মেয়ে সম্পর্কে ধারণা যে মেয়েরা বিয়ে হলে পরের বাড়িতে চলে যাবে। আর সেই সাথে এখনও পরোক্ষ বা প্রতক্ষ্য ভাবে মেয়েদের বিয়ের সময় দিতে হয় যৌতুক যার বোঝা বইতে হয় পিত -মাতাকেই। আর সেই কারণেই কন্যা সন্তানের প্রতি এখনো অনেক দম্পতি অনীহা প্রকাশ করেন।







