৩ টাকায় চিকেন পকোড়া, ২০ টাকায় রোল! দোকান দিয়েছে দুই ইঞ্জিনিয়ার

কলকাতার বুকে এখনও ৩ টাকায় চিকেন পকোড়া, ২০ টাকায় এগ রোল পাওয়া যায় জানতেন? পাওয়া যায় দক্ষিণ কলকাতার বাস গড়িয়া সংলগ্ন রাজপুরে। তবে বেশি দিন হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকেই খুলেছে এই ফাস্ট ফুড কর্নার।
সস্তায় মুখরোচক খাবারের পাশাপাশি এই ফাস্ট ফুড কর্নারের আর একটি বিশেষত্ব রয়েছে। আর এই বিশেষত্বই নজর কাড়ছে ওই এলাকার বহু শিক্ষিত, বেকার বা চাকুরেজীবী যুবক-যুবতীর। এই ফুড কর্নারটি চালান দুই ইঞ্জিনিয়ার। একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আর অন্যজন আর্কিটেক্ট। আর তাঁদের ফাস্ট ফুড কর্নারের নাম ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যুইজিন (Engineer’s Cuisine)।
ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যুইজিনের মেনুতে ৩ টাকায় চিকেন পকোড়া, ২০ টাকায় এগ রোল, ৮০ টাকায় মিক্সড চাউমিন পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে এই তালিকায় রয়েছে আরও একাধিক সস্তা, মুখরোচক, মুচমুচে পদ। ৩ টাকায় চিকেন পকোড়া শুনে যাঁরা নাক শিটকোচ্ছেন, তাঁদের কাছে অনির্বান আর সৃজার দাবি, পকোড়াতে হরিণঘাটার বোনলেস চিকেন দেন তাঁরা। তাই দাম কম হলেও গুণমানের সঙ্গে আপোষ করে না ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যুইজিন (Engineer’s Cuisine)।
দুজনের জমানো সামান্য পুঁজি নিয়েই নিজেদের স্বপ্নের যাত্রা শুরু করেন অনির্বান আর সৃজা। অনির্বান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আর সৃজা আর্কিটেক্ট। উচ্চশিক্ষিত এই যুবক-যুবতী রাজ্যের আইটি সেক্টরের নামী সংস্থায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লড়াই চালিয়ে শেষে প্রোমশন, অ্যাপ্রেজালের পিছনে না ছুটে নিজেদের স্বপ্নের পিছনেই ছুটবেন বলে ঠিক করেন। সাকুল্যে লাখ দুয়েক টাকার পুঁজি, যার মধ্যে ফুড কর্নারের আলোকসজ্জার পিছনেই প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। ক্যাফেতে ঝলমলে আলো লাগিয়ে নিজেদের স্বপ্নকে কিছুটা আলোকময় করতে চেয়েছেন অনির্বান আর সৃজা। তাতে কাজও হয়েছে। মানুষের নজর পড়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যুইজিনের (Engineer’s Cuisine) উপর। এখানে এসে উপরি পাওনা সস্তার সুস্বাদু খাবারের একাধিক পদ।
নামী আইটি সংস্থায় বিপুল কাজের চাপ সামলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন অনির্বান আর সৃজা। তার উপর ২০২০ সালে করোনা অতিমারীর কল্যাণে কাজের চাপ আর দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধির ঠেলায় যে দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। এর মধ্যে একবার ছাঁটাইয়ের ধাক্কাও সামলেছেন। নতুন কাজ খুঁজে পেলেও শান্তি পাচ্ছিলেন না দুই বন্ধুর কেউই। মানসিক শান্তি আর স্বাধীনতার খোঁজে, নিজেদেরকে আর একটু সময় দেওয়ার জন্য খেলে ফেলেন এই ফাস্ট ফুড কর্নার ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যুইজিন (Engineer’s Cuisine)।
অনির্বান আর সৃজার কথায়, ‘কোনও কাজই ছোট নয়। আর স্বপ্ন পূরণের জন্য একটু ঝুঁকি তো নিতেই হবে!’ রাজপুর পদ্মামণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছেই ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যুইজিন। চা, কফির সঙ্গে সস্তায় মুখরোচক আড্ডার জন্য ঢুঁ মারা যেতে পারে এই দুই ইঞ্জিনিয়ারের ফুড কর্নারে।
তথ্যসূত্র: আজতক বাংলা







