দেশরাজ্য

কলকাতায় ১০ কিমির মধ্যে অফিস থাকতে ১৫০০ কিমি দূরে ডাক, ক্ষোভ প্রকাশ অভিষেকের

আজ ধরুন যাঁরা সারদা-নারদা নিয়ে। কাগজে মুড়ি দিয়ে টিভির পর্দায় টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, তাঁদের ক’বার ডেকেছে। আমি বিরোধী বলে এদের কাছে চোর। কাল বিজেপি হয়ে গেলে সাধু হয়ে যাবে। এই ধাপ্পাবাজি বেশিদিন চলতে পারে না। দিল্লিতে বিজেপিকে এভাবেই বিঁধেছেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তিনি আরও বলেন, ইডি-কে জানিয়েছি, আপনারা যখন যেখানে সহযোগিতা করতে বলবেন, করব। বাংলার কেস, কলকাতায় ইডি-র অফিস রয়েছে। এটা হয়রান। এখন উপনির্বাচন রয়েছে, ডেকে পাঠায়। উপনির্বাচন হলে ডেকে পাঠায়। বাংলায় গোহারা হেরেছেন বলে প্রতিশোধ নিচ্ছেন। আমরা মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার লোক।

তিনি বলেন, চোখে অপারেশন হয়েছে। আগামী দিন আরও একটা হবে। এসেছি। ৯ ঘণ্টা তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমার লুকানোর কিছু নেই। কলকাতা থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে ডেকে পাঠিয়েছে। সেখানে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অফিস রয়েছে। হেনস্থা করতে এমন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কলকাতায় অফিসে আছে, এখানে ডাকচেন কেন? যাঁরা এটা শুনছেন, তাঁরা হাসছেন, অন্য ভাবে রিঅ্য়াক্ট করছে। তাঁদের ওপর চাপ থাকলে তাঁরা কী করবেন?

ফের ডেকেছে ইডি

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাকে দ্বিতীয় বার ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এবং আমি আজ থেকে দেড় বছর আগে তদন্তকারী সংস্থা যে তদন্ত শুরু করেছিল, আমি আবার বক্তব্য এবং অবস্থানে অনড়। আমি তখন বলেছিলাম, আমার বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ করতে পারে, ইডি-সিবিআই দরকার নেই, ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করবেন, আমি মৃত্যু বরণ করব। আমি আজও একই কথা বলছি।

টানা প্রায় ৯ ঘণ্টা জেরা

তিনি বলেন, এর আগে আমি সেপ্টেম্বর মাসে এসেছিলাম। তদন্তকারী সংস্থা তার কাজ করছে। আমি সহযোগিতা করছি। এবং আমাকে সেপ্টেম্বর মাসে যখন ডেকে পাঠানো হয়েছিল, তখন প্রায় ৯ ঘণ্টা, সাড়ে ৮ ঘণ্টা জেরা করা হয়েছিল। আজ আমি এসেছি এগারোটার সময়। তারা প্রশ্ন করেছে। কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা চেয়েছে। আমি সেগুলো দিয়েছি। কিছু কাগজপত্র তাঁরা চান। আগে যা কাগজ চেয়েছিল, দিয়ে দিয়েছ। জানিয়েছি, যথা সময়ে আমার কাছে এলে, ব্যাঙ্ক থেকে কালেক্ট করতে, রিটার্নের কপি-টপি চেয়েছে, তা পাঠিয়ে দবে।

ইডি-সিবিআইকে নিজেদের কাজে

বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি যাঁরা ইডি-সিবিআইকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে নেমেছে এবং ভেবেছে আমাকে জোরজবরদস্তি, ভয় দেখিয়ে, ইডির ভয়ে, সিবিআইয়ের জুজুর ভয়ে আমি মাথা নত করব। আমি অন্য মেটেরিয়াল। এ সব যত করবে আমি লক্ষ্যে তত অবিচল থাকব। আমার জেদ তত বাড়বে। আমার মানসিকতা আর অন্যের মানসিকতার মধ্যে পার্থক্য আছে।

আমাকে দুবার ডেকে আপনাদের সমানে আমি এসেছি। তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের কাজ করছে। আমি তাদের দোষ দিই না। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে ভুঁরি ভুঁরি অজস্র অভিযোগ, অভিযোগ ছেড়ে দিন প্রমাণ জনসমক্ষে রয়েছে, তাঁদের ইডি কবার ডাকছে?সিবিআই কবার ডাকছে?বিজেপি ওয়াশিং মেশিন। এই দ্বিচারিতা, ধাপ্পাবাজি বেশিদিন চলতে পারে না।

Back to top button